• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ৯ জুন, ২০২০

ভালোবাসা নাইবা পেলাম, ধিক্কার যেন না পাই; করোনাযোদ্ধা ডা. ফেরদৌস

অনলাইন ডেস্ক

করোনা তান্ডবে লণ্ডভণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। করোনাভাইরাসের ভয়ে যেখানে বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা ডাক্তার তাদের চেম্বার বন্ধ করে অন্দরে ঢুকে গিয়েছেন। সেখানে নিউইয়র্কের মতো মৃত্যুপুরীতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন ডা. ফেরদৌস। প্রতিদিনই ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিরামহীন সেবা দিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি যা করেছেন, সেই বিরোচিত ভূমিকার কথা আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের মুখে মুখে।
লড়াইটা শুরু করেছিলেন মাথা উঁচু করে করে, বীরের মতোই। করোনার চরম দুঃসময়ে যখন আমরা সবাই নিরাপদ দূরত্ব খুঁজেছি, তখন এই ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার চষে বেড়িয়েছেন নিউইয়র্ক শহরের আনাচে কানাচে। উনার এই কার্যক্রম অন্যদের অনুপ্রাণিত করেছে, আরো অনেকেই এগিয়ে এসেছেন প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে। তার এই কর্মকাণ্ড দেশটির প্রভাবশালী বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারও করেছে। প্রতিদিনই দুই বেলা রুটিনমাফিক ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে করোনা বিষয়ে নানা ধরণের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে গেছেন তিনি। নিউইয়র্কের করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে, আর বাংলাদেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে।এমন সময় সিদ্ধান্ত নিলেন নিজ জন্মভূমির মানুষকে করোনা থেকে বাঁচানোর যুদ্ধে শামিল হবেন। দেশে যাবার জন্য যখন তিনি বিশেষ ফ্লাইটে চড়েছিলেন। তখনও হয়তো কল্পনাও করেননি তার জন্য এতো লজ্জাজনক তিক্ত অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।

কোভিড-১৯ নিয়ে গত তিনমাস যুক্তরাষ্ট্রে অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন তিনি। দেশেও গিয়েছিলেন দেশের মানুষের কোনো কাজে নিজেকে লাগানো যায় কিনা সেই উদ্দেশ্য নিয়ে। । এই দুঃসময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকাটা খুবই জরুরি মনে করেছেন বলেই এমনটা করেছেন। দেশ থেকে ডাক্তারি পাশ করে বিদেশ গিয়ে ৯০ শতাংশই দেশে ফেরত যেতে দেখা যায় না। তিনি দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ডাক্তার হয়েছেন। ঢাকা এবং কুমিল্লায় সাধারণ রোগীদের জন্য সাময়িকভাবে একটি আর্জেন্ট কেয়ার ক্লিনিক করারও পরিকল্পনা রয়েছে তার। এই মানুষটার ভাবনাটা সুন্দর। তার জন্য যদি একজন মানুষও উপকৃত হন তবে তিনি ভাববেন সেটাই তার স্বার্থকতা। অনেকেই নাকি তাকে প্রশ্ন করেন, কি লাভ এসব করে? নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন নিজের মতো করে। তিনি সাধারণত এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পছন্দ করেন না। আপন মনে কাজ চালিয়ে যান। তিনি মনে করেন, তারা সত্যিই অভাগা যারা মায়ের প্রতি, দেশের প্রতি এই ভালোবাসার টান অনুভবই করতে পারে না। আজ সেই মানুষটিকে আমরা এই প্রতিদান দিলাম? এ সময়টাতে অবশ্য দেশকে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। সে হিসেবে তিনি তো বিশাল অপরাধ করে ফেলেছেন।

তাইতো দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নিজের মেধা ও শিক্ষা কাজে লাগাতে এসে এভাবে অপমানিত হলেন। এটা কি তার প্রাপ্য ছিলো? সমস্যাটা হচ্ছে, আমাদের পেটে তো ভালোবাসা হজম হয় না। করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিলগ্নে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে যখন দেশে ছুটে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক প্রবাসী ডা. ফেরদৌস খন্দকার তখন থেকেই পড়েছেন বিপত্তির মুখে। অনেকে আবার তাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা ও বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই হিসেবে প্রচার করছেন। নিজের পরিচয়, দেশে ফেরাসহ নানা বিষয়ে কথা বলতে ফেসবুক লাইভে এলেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

লাইভের শুরুতে ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আপনারা। আমি ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার। আজকে আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে বলছি। আশা করছি, ভালো আছেন সবাই। আমিও ভালো আছি মোটামুটি। গতকাল বিকেলে এক বুক আশা নিয়ে এসেছিলাম আপনাদের পাশে দাঁড়াব বলে। আসার পর এয়ারপোর্টে বুঝতে পারলাম যে কিছু দুষ্টু মানুষ আমার পেছনে লেগেছে।‘

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার নামের পেছনে খন্দকার আছে তাই তারা রাষ্ট্রময় বলতে চেয়েছে আমি খুনি খন্দকার মোস্তাকের আত্মীয়। বলতে চেয়েছে, আমি খুনি কর্নেল রশিদেরও আত্মীয়। এগুলো নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তা করতে চাই না।আপনাদের করোনা পরিস্থিত কেমন? আপনারা ভালো আছেন প্রিয় দেশবাসী? যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে আমি ছিলাম বরাবরই। কিছু ডিফিকাল্টিস ছিল প্রথম দিকে। পরে মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছে। আমি তাই এক বুক আশা নিয়ে আপনাদের পাশে এসেছি, আপনাদের পাশে থাকব এই ক্রান্তিকালে। আপনারা আমায় গ্রহণ করবেন তো? আপনারা প্রস্তুত, আমি আছি আপনাদের সাথে।’

করোনাযোদ্ধাদের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন জানিয়ে ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘যাই হোক, বেশকিছু প্রায় আটটি স্যুটকেস নিয়ে এসেছিলাম সেটায় মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই ইত্যাদি সামগ্রী হটলাইনের যোদ্ধা, ডাক্তার, নার্সদের দেবো বলে। এয়ারপোর্টে আটকে দিলো, এগুলোর নাকি ট্যাক্স দিতে হবে এ রকম করোনা ক্রান্তিকালে। রেখেই দিলো, সাথে আনতে পারিনি।তিনি বলেন, ‘আপনাদের কেউ যদি থাকেন, ছাড়াতে পারবেন, ছাড়িয়ে নিয়ে যান। হটলাইনের যে কাউকে দিতে পারেন, আমার কোনো দাবি নাই। আমি এসেছি আপনাদের পাশে আমার কাজটুকু আমি করেছি। উপর থেকে আশা করি, আপনাদের মধ্যে কেউ যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন, এই বাকি কাজটুকু করবেন। যেকোনো একটি হাসপাতালে দিয়ে দেবেন, যেকোনো একটি হাসপাতালে, আপনাদের কাছে আমার একটি অনুরোধ।’নিজের পরিবারের সম্পর্কে ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, ‘আমি আজ আমার পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে তুলে ধরব। আগামী পরশু থেকে আমি করোনা নিয়ে কথা বলব। যেহেতু আমার পরিবার নিয়ে কথা উঠেছে, মানুষ পরিবার নিয়ে কথা বলছে তাই কিছু কথা না বললেই নয়। আপনারা সবাই জানেন ইতিমধ্যে আমার পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন। আমার দাদা ১৯৪৯ সনে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন, আমার বাবা তখন খুবই ছোট, বোধ হয় চার বছর বয়স। আমার বাবারও দাদার স্মৃতি মনে নেই।

’তিনি বলেন, ‘আমার দাদা এক ছেলে ছিলেন, উনার বাবাও এক ছেলে ছিলেন, কুমিল্লারই। আমরা সবাই দেবিদ্বারের ছোট্ট একটি গ্রামে থাকি। আমরা সবাই গ্রামের অংশ। সো, আমার বাবা অল্প বয়সে বাবা হারান। এরপর আমার নানি যিনি উনার খালা হন খুব অল্প বয়সে তার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেন।তিনি আরও বলেন, ‘বাবা খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলেন। তো যাই হোক, বাবা এয়ারফোর্সে ঢুকেন। খুব ভালো করেন। আমাদেরও জন্ম হয়। আমি এক ছেলে। আমার ছোট দুটি বোন। আর আমার বাবার একটি বোন, বোনটি গ্রামেই থাকে। আর আমার বাবা শহরে চলে আসেন। আমরা এই চারজন মানুষের একটি সংসার। পড়ে আমরা বিদেশে চলে যাই, আমেরিকা চলে যাই আপনারা জানেন।’হতাশা কণ্ঠে ডা ফেরদৌস বলেন, ‘ঘুমাইনি আজকে, একেবারেই টেনশন হচ্ছে। আপনারা জানেন যে অনেক কিছুই হচ্ছে।’

নিজের মায়ের পরিবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আর আমার মায়ের পরিবার দেবিদ্বারের পাশের মুরাদনগরের কেষ্টপুর গ্রাম। আমার নানা সামরিক বাহিনীতে অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন। সহজ-সরল মানুষ। উনার ছয় ছেলে, এক মেয়ে। আমার হচ্ছে সেই এক মেয়ে। তার প্রথম ছেলে খুরশিদ আনোয়ার সাহেব, উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ওই সময় সেই এলাকার মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার ছিলেন তিনি। পরে ফার্মাসিস্ট হয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন। আমেরিকায় সেটেল। দ্বিতীয় ভাই উনার মুক্তিযোদ্ধা, অ্যাকাউন্টেন্ট। বেশ নামকরা মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকার বনানীতে। এরপর বাকি যে চার মামা সবাই আমেরিকাতে থাকে।’তিনি বলেন, ‘আমার চার নম্বর মামা মুশতাক আহমেদ। কিছু দুষ্টু লোক এই মুস্তাকের সঙ্গে আমাদের নামের খন্দকার অ্যাড করে বলা শুরু করেছে আমি খন্দকার মোস্তাকের ভাতিজা। অত্যন্ত আশ্বর্যজনকভাবে সত্য, এই মুশতাক আহমেদ বেঁচে আছে এবং তার বয়স হবে ৫৩ বছর। আর খুনি রশিদের সঙ্গেও এটি মিলিয়ে দিয়েছে। আসলে মানুষ যার যা ইচ্ছা বলে, মানুষের গায়ে কালিমা লাগাতে।

’যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই চিকিৎসক বলেন, ‘দেখুন আমি বাংলাদেশে এসেছি- আমি কিন্তু মন্ত্রী, এমপি কিচ্ছু হতে চাইনি। আমার হাতে অনেক সুযোগ ছিল। স্বেচ্ছাসেবী কাজগুলো আমি খুব অল্প বয়স থেকে করি। সেই গ্রামে- আপনারা জানেন, কিন্তু আমি কখনোই চাইনি মানুষের সামনে যেতে, নিজের সম্পর্কে বলতে। এগুলো আমার জন্য না। আপনারা এখন যা দেখছেন, গত ৪-৫ বছর ইউটিউবে থাকার কারণে আপনারা দেখছেন।’প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এই খন্দকার নাম হলেই খন্দকার মোস্তাকের ফ্যামিলি? অথচ কত লক্ষ লক্ষ খন্দকার বাংলাদেশে আছে, তাই না? এটি কী ঠিক? বলুন আপনারা। আর এরকম একটি অ্যালিগেশন দিয়ে আজকে আমি ঘরের মধ্যে।’তিনি আরও বলেন, ‘যাই হোক, আমি আজীবন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগ করেছি অ্যাকটিভলি এবং তার আদর্শও ধারণ করেছি। তার মানে এই নয়, অন্য মতের মানুষগুলোকে আমি গালাগালি করছি। আমি তাদের বিরুদ্ধাচারণ করেছি, তাদের মতের সঙ্গে আমার মিল ছিল না, যুক্তি-তর্কে যা করার তাই করেছি। তার মানে এই নয়, আমি হেরে গেছি, তাদের মতের সঙ্গে মিলে গেছি। এটা আমি স্পষ্ট বলতে চাই এবং করেও যাব। এটিই তো কথা ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

আমি সেই নীতিতে বিশ্বাস করি।’দেশসেবা করতে এসেছেন জানিয়ে ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘দেখুন আমি দেশে এসেছি সেবা দিতে। আমি শুধু মুখে বলেই ক্ষান্ত হইনি। আমি পরিবারকে পেছনে ফেলে ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছি। আমি কিন্তু জানিও না, কবে প্লেন খুলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে যেতে পারব। আমি কিন্তু আপনাদের দেশে, আপনাদের টানে এসেছি। আমি হেরে যাওয়ার জন্য আসিনি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্লাড টেস্টে করোনা অ্যান্টিবডি পজিটিভ। আমার কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন নেই। কাকে বোঝাব বলুন? এই যে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের নামে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত।’আক্ষেপ করে এই চিকিৎসক বলেন, ‘যাই হোক, এটিই বুঝি নিয়ম বোধ হয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, আমি এসেছি। আমি এসেছি আপনাদের পাশে সেবা দিতে। আমি জানি আমার মতো এই দুটি হাত, একটি মানুষ না থাকলেও হয়তো কিছুই হবে না। এ রকম হাজারো ফেরদৌস খন্দকার আপনাদের এই মাটিতে আছে। তাও বুকের ভেতর ভালোবাসা নিয়ে এসেছিলাম। আমি চাইনি এখানে অপমানিত হতে, ভালোবাসা নাইবা পেলাম,ধিক্কার যেন না পাই।’তিনি বলেন, ‘আমি এসেছি এই করোনাযুদ্ধে শামিল হতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার মতো করে চেষ্টা করছেন

। আমি একজন ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে, একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হয়ে, একজন ডাক্তার হয়ে, একজন মানবদরদী মানুষ হয়ে আমি চেয়েছি এই মুহূর্তে আমাদের যে কাণ্ডারী, আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনা, উনার হাতকে শক্ত করার জন্য।’ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘এই বিরুদ্ধাচারণ হচ্ছে, আমি এই ভূ-খণ্ডে থেকে ফাইট করব। আপনাদের পাশে দাঁড়াব। আমৃত্যু আমি আপনাদের সাথে আছি। আশা করছি, আপনারাও আমাকে গ্রহণ করবেন সেভাবে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

আরও পড়ুন

  • এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর