• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ১১ জুন, ২০২০

গাড়ির নিবন্ধন ফি ৫০ শতাংশের বেশি হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক

আগামী অর্থবছরের বাজেটে গাড়ির নিবন্ধন ফি ৫০ থেকে ৬৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ পদক্ষেপ নেওয়ায় ১ জুলাই থেকে গাড়ি ব্যবহারকারীদের খরচ বাড়বে। এত দিন বিদেশে গিয়ে ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করতে পারলেও আগামী অর্থবছর থেকে তা আর করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার একজন ব্যক্তির আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবে। বিভিন্ন অজুহাতে এর বেশি ব্যয় করলে এর জন্য অতিরিক্ত কর গুনতে হবে। ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে আগামী দিনেও কেটে নেওয়া হবে উচ্চহারের কর। আবার বেশি সম্পদ থাকার কারণে নিয়মিত করের বাইরে অতিরিক্ত কর হিসেবে সারচার্জ ধার্য থাকছে। ব্যবসা বাড়ানোর অজুহাতে অনেক অসাধু ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ পাচার করে থাকে। আসছে বাজেটে ব্যবসা উন্নয়ন ব্যয় ব্যবসার টার্নওভারের ০.৫ শতাংশ করতে পারবে। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ভ্যাট এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা ধার্য করে তা আদায়ে উপজেলা পর্যায়ের ক্রেতাকেও রেহাই দেওয়া হবে না। তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায়কৃত ভ্যাট বিক্রেতার পকেট থেকে সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই পুরনো পদ্ধতিই থাকছে। এতে সাধারণ মানুষ ভ্যাট পরিশোধ করলেও তা সরকার হিসাবমতো পাবে না বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে কিছু খাতে ছাড় দিয়ে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে গাড়ির নিবন্ধন ব্যয় বাড়ানো হবে। গাড়ির ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা এবং গাড়ির মডেলের ধরনের ওপর নতুনভাবে অগ্রিম কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব বাজেট প্রস্তাবে ৫০ থেকে ৬৭ শতাংশ রাজস্ব বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ৬৮৮বি ধারা অনুসারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ) ১৯৮৪ ধারায় ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকদের কাছ থেকে যানবাহন নিবন্ধন বা বার্ষিক ফিটনেস নবায়নের জন্য অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করে থাকে। বর্তমানে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতিবছর অগ্রিম কর ১৫ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ৬৭ শতাংশ বাড়ানো হলো। ইঞ্জিনের ক্ষমতা এক হাজার ৫০০ সিসি থেকে দুই হাজার সিসি পর্যন্ত বর্তমানে ৩০ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ৫০ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই হাজার ৫০০ সিসি থেকে তিন হাজার সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অগ্রিম কর এক লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ সিসির ক্ষেত্রে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন হাজার সিসির বেশি হলে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার এনবিআরের জন্য উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কোথা থেকে এ অর্থ জোগাড় করবে তা সমন্বয় করতে পারছে না। এ জন্য গাড়ির মতো জরুরি বিষয়ে কর বাড়িয়েছে। এখন কি আর সেই দিন আছে যে গাড়ি শুধু বিলাসে ব্যবহার হয়। এখন অতি জরুরি কাজেও গাড়ি লাগে। তাই এ ক্ষেত্রে কর বাড়ানোয় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করা হবে আজ। এর মধ্যে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা থাকবে সবচেয়ে বেশি। এরপর আয়কর এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা, সবচেয়ে কম নির্ধারণ করা হয়েছে শুল্ক, ৯৬ কোটি টাকা।

করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। অনেকের আয়-রোজগার কমেছে। কোনোমতে দিন কাটছে অনেকের। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান, অর্থসচিব, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাসহ অর্থ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকে বসেন। এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া শিল্পে অধিক ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দেওয়া, করমুক্ত সীমা বাড়ানো বা করমুক্ত সীমার হারে ছাড়, সাধারণ মানুষের সুবিধায় গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো, করপোরেট করের হার কমানো, কৃষি যন্ত্রপাতির দাম কমানোসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের বিষয় গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে করোনাকালীন মন্দায় খাদ্যসংকট দূর করতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে গতি আনতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়া আবাসন খাতে গতি আনতে বিনা বাধায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ সহজ করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক করের হারে কিছু রদবদল করা হয়েছে। করোনাকালীন সংকটে থাকা সাধারণ মানুষকে সুবিধা দিতে সিলিন্ডার অক্সিজেনে রাজস্বছাড় দেওয়া হবে। করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত সব ধরনের সরঞ্জাম আমদানিতে রাজস্ব সুবিধা বহাল রাখা হবে।

আগামী অর্থবছরে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিয়ে করমুক্ত আয়সীমা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে করমুক্ত করের সর্বনিম্ন সীমা কমতে পারে। ব্যবসায়ীদের বহুদিনের দাবি মেনে করপোরেট করহারে সামান্য ছাড় দেওয়া হতে পারে। বিশেষভাবে ব্যাংক খাতে ২.৫ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হতে পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তবভাবে বাড়িয়ে জনগণকে বিপদে ফেলে দু-চারটি খাতে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি ঠিক হয়নি। শেষ হিসাবে সবই জনগণের ওপর পড়বে।

আরও পড়ুন

  • এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর