• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ৮ জুলাই, ২০২০

’করোনা মোকাবিলায় শুরু থেকেই এগিয়ে এসেছে তরুণরা’

অনলাইন ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তরুণরা কীভাবে এগিয়ে এসেছেন সে প্রসঙ্গ উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের বিশেষ এক ওয়েবিনারে। মঙ্গলবার রাতে দলটির আয়োজনে বিয়ন্ড দ্যা প্যানডেমিকের ১০ম পর্বে ‘করোনাসংকট মোকাবিলায় তরুণদের ভুমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় এ বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। এই বিশেষ ওয়েবিনার প্রচারিত হয় দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

করোনা সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশ তরুণেরা এগিয়ে এসেছে সংকটে পর্যুদস্ত মানুষের সেবায়। হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যার যার অবস্থান থেকে। সরকারের তরুণ সাংসদ, দলের তরুণ নেতা, এই সংকট থেকে উত্তরণের সংগ্রামে কেউ পিছিয়ে নেই। তরুণদের এই সামগ্রিক প্রচেষ্টা নিয়ে কথা বলেন বক্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় এবারের পর্বে আলোচক হিসেবে যুক্ত হন- পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম , বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ শেখ সারহান নাসের তন্ময়, চট্টগ্রামের নারী সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতালের মেডিসিন ও ইনফেকশাস ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী মারুফ, মিশন সেভ বাংলাদেশ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান কাদির এবং চ্যানেল ২৪ এর রিপোর্টার সাংবাদিক জিনিয়া কবির সুচনা।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, যুগে যুগে সংকটকালে সবসময় তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে বর্তমান করোনা সংকটকালে সহায় দুস্থ মানুষের পাশে সবার আগে গিয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের তরুণ সমাজ। আমার নির্বাচনী এলাকায় ডাক্তার যাবে বাড়ি এই স্লোগানকে সামনে রেখে যখনই কেউ অসুস্থ হয়েছে খবর পেলেই ডাক্তার তার বাড়িতে ছুটে যেতেন, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিতেন। আমার এলাকা নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা, নদী ভাঙনের স্বীকার সেই সব মানুষের পাশে আমি সবসময় দাঁড়িয়েছি। আমার এলাকায় অসহায়, দুস্থ মানুষকে করোনাকালীন সংকটে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছি। আমরা হাওরঅঞ্চলসহ দেশের বন্যাকবলিত সমস্ত এলাকায় কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে পেরেছি। আলোচনাকালে তিনি ৯৮ সালে বন্যা মোকাবেলায় তরুণদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি।

সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনি বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্নের আগ থেকেই তরুণরাই সকল সংগ্রাম আন্দোলন ও সংকটকালে তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে তরুণরাই সবার আগে এগিয়ে এসেছে, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার এলাকা ফটিকছড়িতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর থেকেই তরুণদের সাথে সমন্বয় করে ডোর টু ডোর গিয়ে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছি। আমাদের পূর্ণাঙ্গ চারটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছি। আমাদের ২০ শয্যা বিশিষ্ট যে হাসপাল রয়েছে সেটিকে পূর্নাঙ্গ কোভিক হাসপাতাল প্রস্তুত করার কাজ চলছে। শুরুতে জনসচেতনতা তৈরি করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েছি, মাস্ক দিয়েছি। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে যুবক ও তরুণ ভাইদের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছি। এ সময় তিনি তরুণদের বাংলাদেশের শক্তি ও ভবিষৎ বলে উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান বলেন, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তারুণ্যের সংস্কৃতিকে ধারণ করে। যদি দেখা যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি পর্যন্ত সবজায়গাতে তারুণ্যের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। করোনা সংকট কালীন সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমস্ত নেতা কর্মী মৃত্যুভয় অপেক্ষা করে অসহায় দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দুর্যোগ মহামরি মোকাবেলার অভিজ্ঞতা ছিলো বলেই দুর্যোগ শুরুর পর থেকে দল ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতা কর্মী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

চ্যানেল ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার জিনিয়া কবির সূচনা বলেন, গণমাধ্যম কর্মীদের কাজ হচ্ছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা। আমাদের চ্যলেঞ্জ ছিলো সঠিক তথ্য তুলে আনা। করোনা সংকট মোকাবিলার ত্রুটি কিংবা হাসপাতালের সমন্বয়হীনতা তুলে ধরার পর স্বাস্থ্যসেবায় আরো সুদুরপ্রসারি ভাল ফলাফল লক্ষ করা যায়। গণমাধ্যম কর্মীরা জীবন বাজি রেখে কাজ করছে এই মহামারিতে। চিকিৎসা নিয়ে স্বচ্ছতা হওয়া উচিত। এমনকি টেস্ট এর ক্ষেত্রে কিট এর ব্যবহারে সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়া উচিত।

মেডিসিন ও ইনফেকশাস ডিজিজ বিশেষজ্ঞ, কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী মারুফ বলেন, করোনা আমাদের দেশের চ্যালেঞ্জ না সারা বিশ্বের চ্যালেঞ্জ এটা। আমরা অনেক রাজনৈতিকদের কথা শুনেছি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে এই মহামারি মোকাবিলা করেছে তার প্রশংসা করছি৷

তিনি বলেন, মহামারি রোধে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। স্বাস্থ্য বিভাগ শুধু চিকিৎসকরা চালায় না। এটা অনেকের উপর নির্ভরশীল। যারা সুরোক্ষা সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতি করেছে তাদেরকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতাও আনা হয়েছে।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘করোনার এই মহাসংকটে আপনারা জানেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রথম দিন থেকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রত্যেকটা নেতাকর্মী কাজ করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলো আমরা ছাত্রলীগের সেচ্ছাসেবক টিক গঠন করে আমরা বাড়ির মালিকদের বুঝিয়ে এই সমস্যার সমাধান করছি এবং করোনার শুরুতেই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে অসহায় কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তখন কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক হয়ে তাদের কিন্তু জানাজা ও দাফন করছেন।

মিশন সেভ বাংলাদেশ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান কাদির বলেন, ২৬ তারিখ থেকে লকডাউন হয়, আমরা সিদ্ধান্ত নেই এই সংকটে কিছু করার। আমরা প্রথমে ৫ টি এলাকায় ২ হাজার রিকশা. চালকদের মাঝে খাবার দেই , ১ হাজার টাকা করে ১০ দিনের খাবার দেওয়া হয়। করোনায় কাজ করার আমরা দ্রুত সরকার থেকে পারমিশন পাই। এরপর আমরা সরকারকে সহায়তা করি বিভিন্ন ভাবে। আমরা প্রায় ২ কোটি টাকা ফান্ড রেইজ করেছি। এরপরে সাকিব আল হাসান আমাদের সাথে যুক্ত হবার পরে আমারা ১২১ টি প্রতিষ্ঠানের সাথে কানেক্ট হয়ে কাজ করছি। আমরা যে যেখানে আছি আমরা যেন সেভাবে সহয়তা করি। অনেক ভাল কিছু হচ্ছে এই ফাউন্ডেশন এর সাহায্যে। এই ধরনের সিচুয়েশন যদি ভবিষ্যৎ এ ও আসে যাথে সবকিছু স্মুথভাবে করা যায় সেগুলো রেপিড রেসপন্স এর মাধ্যমে কাজ করা যায়।
আওয়ামী লীগের সামাজিক মাধ্যম ছাড়াও পর্বটি আরো প্রচারিত হয় বিজয় টিভির পর্দায় এবং সমকাল, ইত্তেফাক, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, বিডিনিউজ২৪, বাংলানিউজ২৪, জাগোনিউজ২৪, বার্তা২৪, সারাবাংলা, বিজয় টিভি এবং চ্যানেল আই’র ফেসবুক পেজে।

এপর্যন্ত বিয়ন্ড দ্যা প্যান্ডেমিকের নয়টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ পর্বটি প্রচারিত হয়েছে গত ৪ জুলাই। করোনা মোকাবেলায় তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভুমিকা নিয়ে সাজানো এই পর্বে অন্যতম আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

আরও পড়ুন

  • এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর