• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২০

ভিয়েতনামে নির্যাতনের শিকার প্রবাসীরা

অনলাইন ডেস্ক

ভিয়েতনামে কর্মসংস্থানের আশায় গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রতি মাসে ৫০০ ডলারের বেশি আয়ের প্রতিশ্রুতি পেলেও দেশটিতে যাওয়ার পর কোনও কাজ পাচ্ছেন না তারা। উল্টো নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রতারক চক্র অর্থপাচারে জোরপূর্বক ব্যবহার করছে তাদের। বাধ্য হয়ে অনেকেই দেশে ফিরে এসেছেন। অনেকে দেশে ফেরার জন্য সহযোগিতা চেয়ে সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্রাভেল এজেন্সি দালালরা ভিয়েতনামে উচ্চ বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রচারণা চালায়। ভালো প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ৫০০ ডলারেরও বেশি বেতনে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়।

বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে আগ্রহীদের ঢাকায় এনে এজেন্সিগুলোর অফিসে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জনপ্রতি ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেয়। এরপর প্রত্যেককে দেওয়া হয় বিএমইটি কার্ড (জনশক্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর ছাড়পত্র)। তবে তাদের ভিয়েতনামে পাঠানো হয় পর্যটক ভিসায়।

বাংলাদেশ থেকে কাজের আশায় ভিয়েতনামের উদ্দেশে বিমানে ওঠার সময় প্রত্যেকের সঙ্গে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়। কেউ ডলার বহনে রাজি না হলে ফ্লাইট বাতিলের ভয় দেখানো হয়। ভিয়েতনামে পৌঁছানোর পর মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা বিমানবন্দরে তাদের গ্রহণ করে। তারপর ডলার ও পাসপোর্ট কেড়ে নেয়।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কমপক্ষে ১২০০ বাংলাদেশি কাজের আশায় ভিয়েতনামে গেছেন। তাদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। উচ্চ বেতনের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হলেও তাদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না। ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরে পাচারকারী চক্র নিজের নিয়ন্ত্রিত বাড়িতে বেশিরভাগ বাংলাদেশির জন্য থাকার ব্যবস্থা করে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অভিযোগ, উচ্চ বেতন ও ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজের কথা বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থায়ী কোনও কাজ পান না তারা। এক বা দুই সপ্তাহ একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করানোর পর নিয়ে যাওয়া হয় অন্যটিতে। তাছাড়া কাজ করলেও নিজের হাতে বেতন পান না। পাচারকারীদের ভাড়াবাড়িতে প্রবাসীদের আশ্রয় মিললেও থাকা-খাওয়ার খরচ বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। কেউ প্রতিবাদ করলেই চলতে থাকে নির্যাতন। অনেককে নির্যাতন করে বাংলাদেশ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

এদিকে পাসপোর্ট না থাকায় পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন অনেক প্রবাসী। এমন পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে ভিয়েতনামে বাংলাদেশ দূতাবাসে হাজির হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মধ্যে রাজু আহমেদ ভিয়েতনাম থেকে দেশে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

  • এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর