• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২০

আগের ভাড়ায় কবে ফিরবে গণপরিবহন?

অনলাইন ডেস্ক

করোনার কারণে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে আগেই। বাসায় বসে অফিস করার সুযোগও বাতিল করেছে সরকার। পুরোদমে শুরু হয়েছে অফিস-আদালত। গণপরিবহন ও রাজপথ ফিরেছে পুরনো রূপে। করোনাকালের সবকিছুর বদল হলেও বদলায়নি গণপরিবহনে ভাড়া।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন পরিচালনার জন্য ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে সরকার। কিন্তু শতভাগ আসনে যাত্রী নিচ্ছে পরিবহনগুলো। কিন্তু ভাড়া ফেরেনি আগের জায়গায়। বাড়তি ভাড়াই নিচ্ছে তারা। এ নিয়ে যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যেসব শর্তে করোনাকালীন সময়ে গণপরিবহন পরিচালনা শুরু করা হয় সেসবের কিছুই মানা হচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত ৫০ শতাংশ আসনের পরিবর্তে পরিবহনের সবকটি আসনে যাত্রী বসিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

কিন্তু ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ। তবে কখনও কখনও সরকার ঘোষিত বর্ধিত ৬০ শতাংশও আদায় করা হয়। এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন পরিচালকদের মাঝে বাক-বিতণ্ডাও হতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দাবি, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি ও সরকার ঘোষিত কিছুই মানা হচ্ছে না তাই আগে ভাড়ায় ফেরা উচিত। বাড়তি ভাড়া নেওয়া অযৌক্তিক।

নগরীর ধানমণ্ডি ২৭, ৩২, পান্থপথ, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, বাংলামটর, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সকালে অফিস শুরুর আগে এবং বিকালে অফিস শেষ হওয়ার পর প্রতিটি পরিবহনের সবকটি আসন ভর্তি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। মালিকদের কাছে পর্যাপ্ত পরিবহন থাকলেও তারা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সবকটি পরিবহনে যাত্রী পারাপার করছে বলে অভিযোগ অনেক যাত্রীর।

পল্টন মোড়ে কথা হয় মিরপুরের বাসিন্দা সামছুল আলামীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে অনেক মানুষ। সরকার বাসায় বসে অফিস করার সুযোগ বাতিল করেছে। সশরীরে উপস্থিত হয়েই এখন অফিস করতে হচ্ছে। অন্যান্য সংস্থাগুলোও চালু হয়েছে।

কিন্তু যাত্রীর তুলনায় পরিবহন সড়কে কম। কারণ রাস্তায় বাস কম রাখা হলে মানুষের চাপ বেশি থাকবে। তখন যাত্রীরা বাধ্য হয়েই বাসের সব আসন দখল করে বসবে। এমন সংকট সৃষ্টি করতেই পরিবহন মালিকরা যাত্রীদের তুলনায় রাস্তায় বাস নামাচ্ছে না। আর বেশি যাত্রী পরিবহন করলেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ।

নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার বাসিন্দা রাজিব উদ্দিন বলেন, ঈদে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসার সময়ও দেখেছি সব আসন ভর্তি করে যাত্রী বহন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১২ তারিখে হীমাচল পরিবহনের করে ঢাকায় এসেছি। ভাড়াও রাখা হয়েছে ডাবল। যাত্রীও সব আসনে নেওয়া হয়েছে। এটা তো পরিবহন মালিকদের খাম খেয়ালিপনা। সরকারের উচিত হবে এখনই আগের দাম ঘোষণা করে দেওয়া।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি হাজী আবুল কালাম বলেন, আসলে এটা সত্য অনেক পরিবহন ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখছে না। আর মানুষও এখন আর করোনাকে ভয় পায় না। কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। আমরাও চাই আগের ভাড়ায় ফিরে যেতে। তাহলে আর বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আমাদের নিতে হবে না।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এখন দেশের কোনও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যে সব শর্ত অনুসরণ করে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়েছিল তার কোনওটাই মানা হচ্ছে না। সেই পুরনো কায়দায় গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। আবার এই করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়ার চেয়েও অধিকাংশ রুটে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে করোনা সংকটে কর্মহীন ও আয় কমে যাওয়া দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাঈদুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই অনেক গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। এরই ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি এখন দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেসব শর্ত অনুসরণ করে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়েছিল- তার কোনওটিই মানা হচ্ছে না।

গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এমনকি সরকারের বর্ধিত ৬০ শতাংশের বেশি ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে অনেক রুটে, বহু পরিবহনে। ফলে করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়া ও আয়-রোজগার কমে যাওয়া সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। গণপরিবহনও ক্রমেই নৈরাজ্যকর সেই পুরানো চেহারাই ফিরছে। এ অবস্থায় দ্রুত আগের ভাড়ায় ফিরে যাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

  • এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর