• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২০

মুসলিম দেশগুলোকে কাঠগড়ায় তুললেন তসলিমা

অনলাইন ডেস্ক

চীনে উইঘুর মুসলিমদের উপর আবারও অত্যাচারের অভিযোগ। চীনের বিরুদ্ধে শিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পুরনো। এবার সেই মসজিদের জায়গায় সুলভ শৌচালয় বানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আর এই পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলি প্রতিবাদ না করে নীরবতা পালনের জন্যে তাদের কাঠগড়ায় তুললেন আলোচিত-সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

টুইটারে তসলিমা লিখেছেন, ‘চীন উইঘুর মুসলিমদের উপর অত্যাচার করছে। কিন্তু কটা মুসলিম দেশ এর বিরোধিতা করছে? আসলে চীন মুসলিম দেশগুলিতে বিপুল পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগ করে। তারা খুব ভালো করেই জানে, অর্থ ধর্মের থেকে অনেক বেশি জরুরি।’

চীনে উইঘুরদের পাঁচ হাজারের বেশি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত বছর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, মাত্র ৩ বছরে প্রায় ১৫ হাজার মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে চীন প্রশাসন।

এবারের ঘটনাতেও এখনও পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়নি পাকিস্তান-সহ কোনও ইসলামিক দেশই। আর তা নিয়েই এবার কটাক্ষ করলেন তাসলিমা নাসরিন।

ইয়াহু নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, শিনজিয়াং প্রদেশে একটি মসজিদ ধ্বংস করে সেখানে পাবলিক টয়লেট নির্মান করছে চীন। ২০১৬ সালে ওই অঞ্চলের তিনটির মধ্যে দুইটি মসজিদই ভেঙ্গে ফেলে চীন সরকার।

রেডিও ফ্রি এশিয়ায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সেখানে এরইমধ্যে পাবলিক টয়লেট নির্মান করা হয়েছে। এখনো সেটি খুলে দেয়া হয়নি তবে নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব মিডিয়ায় উইঘুরদের ওপর চীনের দমনপীড়ণ বেশ আলোচিত হয়েছে। এতে উঠে এসেছে কীভাবে উইঘুরদের উদ্যোম নষ্ট করতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে চীন। মসজিদ ধ্বংসও তার একটি অংশ।

এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে উইঘুরদের বন্দীশিবিরের কথাও গণমাধ্যমে প্রচার হতে শুরু করে। চীন এ দাবি অস্বীকার করে এসব শিবিরকে পুনশিক্ষা কেন্দ্র বলে দাবি করেছে। তবে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উইঘুরদের মগজধোলাইর বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, সেখানকার আরেকটি মসজিদকে মদ বিক্রির দোকানে পরিণত করেছে চীন সরকার।

ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীরা মদকে নিষিদ্ধ মনে করে। তাই চীন সরকারের এ ধরণের আচরণকে সরাসরি উইঘুরদের উদ্যোম নষ্টের চেষ্টা মনে করা হয়। সেখানে এখন তেরেস মসজিদ নামের একটি মাত্র মসজিদ চালু রয়েছে। এর আগে চীনের পুলিশ উইঘুর নারীদের জন্য পোশাক নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে সেখানে এরইমধ্যে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন