• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২০

আন্তর্জাতিক উদ্যোগে জোর দিলে করোনার ভ্যাকসিন সহজে মিলবে

অনলাইন ডেস্ক

কোনো দেশের লবিং নয়, বরং করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন (টিকা) পেতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে বেশি গুরুত্ব এবং জোর দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, এখন বিভিন্ন দেশ ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। কিছু ভ্যাকসিন ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। এসব ভ্যাকসিনের মধ্যে কোন দেশের জন্য কোন ভ্যাকসিন বেশি ফলপ্রসূ হবে সেটা দেখা দরকার। এসব বিষয় চিন্তা করেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিল অ্যান্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স সবাই মিলে একটা জোট তৈরি করা হয়েছে, যেন নিম্ন আয় ও নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলো কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পায়।

‘করোনা ভাইরাসের যেসব ভ্যাকসিনের ট্রায়াল সফল হবে, এই জোট সেই ভ্যাকসিন অগ্রিম কিনবে। ইতোমধ্যে তারা দুইশ কোটি ডোজের অর্ডারও দিয়ে রেখেছে। আমার জানামতে বাংলাদেশ সেখানে ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে।

বিশিষ্ট এ চিকিৎসা বিজ্ঞানী আরও বলেন, ভ্যাকসিন তৈরি সফল হলে তখন অনেক দেশ এটা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। বাণিজ্যিকভাবে ভ্যাকসিন বিক্রি শুরু হলে এটা উচ্চমূল্যে বিক্রি হবে। তখন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের পক্ষ এটা কেনার সামর্থ্য নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক উদ্যোগে গঠিত এ জোট নিম্ন ও নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশকে সুরক্ষা দিতে খুবই স্বল্পমূল্যে ভ্যাকসিন দেবে।

‘ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কিছু নীতিমালা তৈরি করেছে। সে অনুযায়ী তারা প্রথমেই অগ্রাধিকার দেবে কোনো দেশের মোট জনগোষ্ঠীর তিন শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মীকে। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার পাবে সেই দেশের ২০ শতাংশ লোক যারা বিভিন্ন কোমরবিটি ডিজিজে আক্রান্ত ও বয়স্ক ব্যক্তি। এরপর শেষ পর্যায়ে আরও ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ আছে। কোনো দেশ যদি এই জোটের কাছে জাস্টিফিকেশন করতে পারে তারা আরও ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন প্রয়োজন, তাহলে সেই দেশ অতিরিক্ত এই ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন পেতে পারে। ’

অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এখন থেকেই বিভিন্ন এক্সপার্ট গ্রুপ করে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। তাহলে ভ্যাকসিন পেতে সমস্যা হবে না। অন্যদিকে এটাকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনো দেশের লবিং করার ফলে আমরা তাদের কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনে ফেলি, সেটা দেশের জনগণের জন্য ক্ষতি হবে। আন্তর্জাতিকভাবে খুবই সুন্দর একটি সিস্টেম ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। আমাদের উচিত সেই সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে গিয়ে, এটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ এখানে অগ্রিম কেনার জন্য আগেই বুকিং দিয়ে রাখতে হয়।

‘বুকিংয়ের ডেটলাইন মেইন্টেইন না করলে কিন্তু হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে ভ্যাকসিন। বাংলাদেশ এই সিস্টেমের লাইনে আছে। এখন জাতিসংঘে বাংলাদেশের যে মিশন রয়েছে সেই এক্সপার্টদের হেল্প নিয়ে ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য চেষ্টা জোরদার করতে হবে। কারণ প্রায় প্রতিটা দেশ ভ্যাকসিন পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আমাদের মিশনের কার্যক্রমের উপর নির্ভর করবে ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ২০ শতাংশ পাওয়া না পাওয়া। ’

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এই জোট থেকে আমাদের মোট ৪৩ শতাংশ ভ্যাকসিন নিতে হবে। ইতোমধ্যে আমাদের দেশে অনেকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। একটা দেশের জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশ ভ্যাক্সিনেটেড হলেই কিন্তু হার্ড ইমিউনিটির দিকে চলে যায়। হার্ড ইমিউনিটি হয়ে গেলে আমরা নিরাপদ। ভাইরাস তখন আর খুব বেশি সুবিধা করতে পারে না। সুতরাং, আমাদের ভ্যাকসিন কেনার ক্ষেত্রে কোনো দেশের লবিংয়ে না গিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গঠিত এই উদ্যোগে জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই বিজ্ঞানী।

আরও পড়ুন

  • এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর