• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০২০

পিরোজপুরে কমেছে মাস্কের ব্যবহার

অনলাইন ডেস্ক
বাজারে পণ্য কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মুখে নেই মাস্ক

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা শ্রমজীবী আ. রশিদ। রিকশা চালিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় মাস্ক ব্যবহারের বাধ্য বাধকতা থাকলেও তিনি তা ব্যবহার করছেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রশিদ বলেন, ‘৯০ ভাগ লোক মাস্ক ব্যবহার করছেন না। মোরা যেমন-তেমন, অনেক ভদ্দর লোকরা মাস্ক ব্যবহার করেন না।’ তার রিকশায় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কথার সত্যতা মিলেছে। সজেমিনে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও সভা-সমাবেশে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। অনেকেই ব্যবহার করছেন না প্রয়োজনীয় মাস্ক।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে গেলে দেখা যায় রোগীদের উপচে পড়া ভীড়। কোনও রকম সামাজিক দূরত্বের বালাই নাই। দুই-চার জনের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও বেশিরভাগেরই মুখে ছিল না মাস্ক। প্রতি ডাক্তারের কক্ষের সামনে লোকজনের ঠাসাঠাসি ছিল। চিকিৎসা নিতে আসা নান্টু নামে একজন জানান, করোনা শুরুর প্রথম দিকে ডাক্তাররা দূর থেকে রোগী দেখতেন, এখন প্রায় আগের মতো (করোনার আগে যে রকম রোগী দেখতেন) রোগী দেখছেন তারা।

“>হাসপাতালে আসা রোগীদের অনেকেরই মুখে নেই মাস্কপিরোজপুর জেলা হাসপাতালের জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. তৈয়ব আলী হাওলাদার জানান, পাঁচ হাজার ২৬৭ জনের নমুনা বরিশালে পাঠানো হয়েছে। পাঁচ হাজার ২৬০ জনের নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ১১ অক্টোবর পর্যন্ত করোনা পজিটিভ ছিল এক হাজার ৯৪ জন। সুস্থ এক হাজার জন। অন্যরা হোম আইসোলেশন ছিলেন। মারা গেছেন ২৪ জন।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ মঞ্জুয়ারা জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকা ২১৯ জনের মধ্যে ২১৮ জন সুস্থ হয়েছেন। গেল ২২ সেপ্টেম্বর ভান্ডারিয়ার একজন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি আছেন।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহম্মাদ আল মুজাহিদ জানান, মাস্ক পরার বিষয়ে মানুষ সচেতন না। মাস্ক না পরার কারণে অনেককে জরিমানা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

.

“>মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছেন অনেকেভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম জানান, মানুষের মধ্যে করোনা ভীতি কমেছে, এ কারণে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছে না।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে, পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা জানান, মানুষ সচেতন না। আগে জরিমানা করা হয়েছে। এখন সচেতনামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সাবান কেনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এ টাকা দিয়ে শিগগিরই মালামাল কেনা হবে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদ জানান, করোনা পরিস্থিতি অনেকদিন বিরাজ করার কারণে মানুষের মধ্যে সহনীয় প্রভাব চলে এসেছে। যে কারণে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত ও সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, তারা করোনার সেকেন্ড ওয়েভ ফিল করছেন। ১১ অক্টোবর রবিবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় করোনার সেকেন্ড ওয়েভ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাস্ক না পরার কারণে এর আগে আমরা নিয়মিত মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করতাম। সেকেন্ড ওয়েভকে সামনে রেখে আমরা এ বিষয়ে নতুন করে আইন প্রয়োগ করা শুরু করবো।

অনেক সময় সভামঞ্চে থাকা অতিথিদের মধ্যে অনেককে মাস্ক পরতে দেখা যায় না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষিত সচেতনদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরও সচেতন হতে হবে।

.

“>বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মুখে নেই মাস্কপিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার নিজাম উদ্দিন জানান, বর্হিবিভাগ, জরুরি বিভাগ, অন্তঃবিভাগে রোগীর চাপ এখন অনেক বেশি। জনবল সংকটতো আছেই, তারপরেও আমরা সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সবধরনের রোগী আসছে। করোনার আগে যে রকম রোগী আসতো, বর্তমানেও সেরকম রোগী আসছে। তিনি বলেন, রোগী ও দর্শনার্থীদের মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন হাসনাত ইউসুফ জাকি জানান, এখন করোনার প্রভাব কম। আগের চেয়ে স্যাম্পল কম। সিম্পটম ছাড়া তো স্যাম্পল হয় না। মানুষের মধ্যে ধারণা হয়েছে করোনা চলে যাচ্ছে। এ কারণে মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না।

তিনি আরও বলেন, ডাক্তার-নার্সদের ব্যাবহারের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী রয়েছে। জেলা হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোর জন্য হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা পাওয়া গেছে। পিরোজপুর জেলা পরিষদ থেকে এগুলো দিয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন না থাকার কারণে এগুলো ব্যাবহার উপযোগী করা যাচ্ছে না। পিরোজপুর ও ভান্ডারিয়ায় চারটি হাইফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা লাগানোর জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর তিন কোটি ২৭ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরি করেছে। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করে তারা সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন করে দিবে। তখন এগুলো ব্যবহার করা যাবে। সেকেন্ড ওয়েভ ঠেকাতে তিনি মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন