• ঢাকা
  • রবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২০

স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেলেন নাটোরের নির্যাতিত সেই নারী

অনলাইন ডেস্ক

নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন ফতোয়াবাজির শিকার হওয়া গ্রাম্য মাতবরদের হাতে নির্যাতিত নারী মর্জিনা (৪০)। ফিরে পেয়েছেন নিজের সম্মান। সঙ্গে পেয়েছেন থাকার জন্য একটি ঘর।

শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্যাতিত নারী মর্জিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন ইউএনও তমাল হোসেন। এখন পরিবারে ফিরে এসেছে সুখ-শান্তি। এতে স্বাভাবিকভাবেই চলছে তাদের জীবন।

নির্যাতিত নারী মর্জিনা ওই এলাকার মো. কামরুজ্জামানের স্ত্রী। নির্যাতীত নারী মর্জিনার বাড়ি গিয়ে নতুন ঘর ও তার পরিবারের সার্বিক খোঁজ নেন ইউএনও।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের দেবোত্তর গরিলা গ্রামে তাদের বাড়ি। এক ছেলে এক মেয়ে আর স্বামী নিয়ে মর্জিনার সংসার। অসুস্থতার কারণে তার স্বামী কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। ছেলের উপার্জনের টাকা দিয়েই চলত অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা ও সংসার।

সম্বল বলতে বাড়ির জায়গা ছাড়া আর কিছুই নেই। অনেক কষ্টেই চলছিল তাদের জীবন। গ্রামের কিছু অসাধু লোকের তার বাড়ির জায়গার ওপর নজর পড়ে। তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টাও করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১০ জুন মেয়ের বাড়ি থেকে জামাইয়ের সঙ্গে তিনি সন্ধ্যার পর তার নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় কিছু অসাধু ব্যক্তি রাস্তার মাঝে তাদের আটক করে জামাই-শাশুড়ির অবৈধ সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেছিলেন।

পরদিন সকালে মসজিদের ইমাম ফতোয়া দিয়ে ও গ্রাম্য মাতবররা সালিশ করে তাদের একঘরে করে রেখেছিল। তিন দিন না খেয়ে কাটে তাদের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তমাল হোসেন বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের পরিবারসহ উদ্ধার করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে খাবার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। দুই দিন পরে নির্যাতিতা নারী মর্জিনার করা মামলায় আটক হয় ওই এলাকার ইমামসহ গ্রাম্য মাতবররা।

শুক্রবার বিকালে মর্জিনা জানান, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। পেয়েছে থাকার জন্য নতুন একটি ঘর। সেটিও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইউএনও তমাল হোসেন। ফতোয়াবাজদের ও গ্রাম্য মাতবরদের কারণে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল তাদের জীবন। এখন তারা স্বভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন।

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে মর্জিনা বেগমের পরিবারকে ফতোয়া দিয়ে একঘরে করে রাখা হয়েছিল। খবর পাওয়ামাত্রই সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রদান করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। তারপর প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর দেয়া হয়েছে। কেননা তিনি ঘর পাওয়ার যোগ্য। ঘর দেয়া ও সহযোগিতার পাশাপাশি এসব নির্যাতিত নারীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন সব সময় রয়েছে।

 

আরও পড়ুন

  • এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর