• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মে, ২০২১

বিক্রি হবে চিড়িয়াখানার হরিণ ও ময়ূর

অনলাইন ডেস্ক

করোনা মহামারির কারণে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ। এতে নির্বিঘ্নে দিন কাটাচ্ছে সেখানকার প্রাণীকূল। ফলে বেড়েছে তাদের প্রজননক্ষমতা।

 

নতুন অতিথি এসেছে অনেক প্রাণীর ঘরে। এতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অতিরিক্ত প্রাণীগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে প্রথমে হরিণ ও নীল ময়ূর বিক্রি করা হবে।

 

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. আবদুল লতিফ শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরিচালক বলেন, এখানে আমাদের নিজস্ব স্টক থাকা সাপেক্ষে দুটি প্রাণী বিক্রির অনুমতি দেয়া আছে। সেগুলো হলো চিত্রা হরিণ ও ময়ুর পাখি। জাতীয় চিড়িয়াখানা মূলত দেশ-বিদেশের প্রাণী প্রদর্শনের স্থান, এটি খামার নয়। ফলে অতিরিক্ত পশু-পাখি বিক্রি করা হয়ে থাকে। বর্তমানে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকায় সব প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা বেড়েছে। পশু-পাখি নিয়মিত বাচ্চা দিচ্ছে। এ কারণে প্রথম ধাপে হরিণ ও নীল ময়ূর বিক্রি করা হবে।

 

আবদুল লতিফ বলেন, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৪০-৫০ হাজার টাকায় হরিণ বিক্রি করছে। এ কারণে সরকারি মূল্য ৭০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার বা তার কম মূল্যে বিক্রি করার অনুমোদন পেতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে দাম কমানোর প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার আগ পর্যন্ত হরিণ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি ময়ূর ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হবে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচ মাস দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকায় প্রাণীদের কেউ বিরক্ত করছে না। তারা নিজেদের মতো করে খাবার খেয়ে আরাম-আয়েশে সঙ্গীদের নিয়ে দিন পার করছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সব প্রাণীর প্রজনন বেড়েছে। কয়েক মাস আগে মা হরিণগুলো অনেক বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। সেগুলো এখন বেশ বড় হয়েছে। সব মিলিয়ে চিড়িয়াখানার তিনটি শেডে বর্তমানে ৩১৮টি হরিণ রয়েছে। শেডগুলো অসমতল হওয়ায় ধারণক্ষমতা কম। চিড়িয়াখানার এসব শেডে সর্বসাকুল্যে ৩০০ হরিণের অবাধ বিচরণের সুযোগ রয়েছে। অথচ এখন হরিণের সংখ্যা ৩১৮টি। এজন্য কিছু হরিণ দ্রুত বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

অন্যদিকে চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ৭৮টি নীল ময়ূর রয়েছে। এসব ময়ূর বিক্রি করা হবে। নীল ময়ূরের জন্য পর্যাপ্ত স্থান থাকলেও বিরল প্রজাতির পাখি হওয়ায় এগুলো বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই পাখির বিচরণ বাড়বে। মানুষ নীল ময়ূর সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব খাতে আয়ও বাড়বে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

 

আরও পড়ুন