• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মে, ২০২১

রহস্যজনকভাবে ‘বাবা হুজুর’ খুন ,আস্তানায় পাওয়া গেল সহস্রাধিক জ্বীন!

অনলাইন ডেস্ক

বগুড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত মোজাফ্ফর হোসেন ওরফে বাবা হুজুরের আস্তানায় পাওয়া গেছে সহস্রাধিক কথিত জ্বিন। আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে কথিত এসব জ্বিনদেরকে দীর্ঘ দিনবন্দী করে রাখা হয়েছে কাঁচের বয়ামে। বাবা হুজুর জ্বিনের সাধনা করতেন। আর এসব জ্বিনদেরকে বশ করার মাধ্যমে তার আস্তানায় আসা লোকজনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের নামে হাতিয়ে নিতেন হাজার হাজার টাকা।

 

এদিকে মোজাফফর হোসেন (৬০) ওরফে বাবা হুজুরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার তিন সপ্তাহেও কোন ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ। গত ৪ মে সকাল ১০ টার দিকে বগুড়া -নাটোর মহাসড়কে শাজাহানপুর থানার জোড়া নামক স্থানে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থামিয়ে অন্যান্য যাত্রীদের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বাবা হুজুর হত্যার কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ তার সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য পেয়েছেন। কোরআনের হাফেজ এবং তার পরিচালনায় একটি কওমি মাদ্রাসা থাকলেও তিনি কখনও নামাজ পড়তেন না। এমনকি রমজান মাসেও তিনি রোজা রাখতেন না বলে জানিয়েছেন তার সহকারি মাওঃ মাহবুব হোসেন।

জ্বিন হাজিরের মাধ্যমে অন্যের সংসার ভাঙ্গা এবং জোড়া লাগানোর কাজ করলেও তার নিজের মেয়ের সংসার জোড়া লাগাতে পারেন নি তিনি। তার প্রথম স্ত্রীর মেয়ের সংসার ভেঙ্গে গেলে আবারো অন্যত্র বিয়ে দেয়া হয় তাকে। বাবা হুজুর সম্পর্কে আরো জানার জন্য পুলিশ মাওঃ মাহবুবকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন।

বাবা হুজুরের আস্তানায় গিয়ে দেখা গেছে,এক হাজারের বেশী ছোট-বড় কাঁচের বয়াম। যার প্রত্যেকটি গামছা দিয়ে মুড়িয়ে টাইট করে বেঁধে বস্তাবন্দী করে রাখা হয়েছে। সহকারি মাওঃ মাহবুব জানান প্রত্যেকটি বয়ামে বাবা হুজুরের অনুগত জ্বিন বন্দী করে রাখা আছে। এসব জ্বিনকে ব্যবহার করে তিনি মানুষের সমস্যার সমাধান দিতেন। বাবা হুজুর খুন হওয়ার পর তার সহকারির কাছে এখনও বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিশেষ করে নারীরা ফোন করেন বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য।

বাবা হুজুরের আস্তানায় আসা লোকজন জানান, পারিবারিক কলোহ, প্রেম ভালবাসা, স্বামী, স্ত্রীকে বশ করা, সংসার ভাঙ্গা কিম্বা টিকিয়ে রাখার জন্য জ্বিনের মাধ্যমে তাবিজ দিতেন বাবা হুজুর। তার আস্তানায় যাতায়াতকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই ছিল বেশী। তবে প্রেম এবং আইপিএল এর জুয়া খেলায় জড়িত অনেক যুবকও আসতো তার আস্তানায়।

বাবা হুজুর খুনের পর গত তিন সপ্তাহে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করেও কোন ক্লু পায়নি। এমনকি তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেও খুনের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করতে পারেনি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই খুনের সাথে কোন ইসলামী জঙ্গি সংগঠনের হাত আছে কি না, সে বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

বাবা হুজুরের দুই স্ত্রী নিয়ে বিরোধ, মেয়েকে ২য় বিয়ে দেয়া নিয়ে বিরোধ, জ্বিন হাজিরের মাধ্যমে তাবিজ বিক্রি করা নিয়ে বিরোধ, আইপিএল জুয়া খেলা নিয়ে ভবিষ্যৎ বানী করার বিষয় গুলি অনুসন্ধান করেও কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। নিহত বাবা হুজুর হাফেজ হওয়া সত্বেও নামাজ পড়তেন না। এবিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ এখন খুনের সাথে জঙ্গি কানেকশন আছে কি না সে বিষয়ে অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন।

তবে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলা নিয়ে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। খুব শীঘ্রই বাবা হুজুর হত্যার সাথে জড়িতরা গ্রেফতার হবে।

আরও পড়ুন

  • অপরাধ ও দুর্নীতি এর আরও খবর