• ঢাকা
  • সোমবার, ৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বালু উত্তোলনের ফলে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে তেঁতুলিয়া

অনলাইন ডেস্ক

ভোলা সদর উপজেলা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ উপায়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে তেঁতুলিয়া। ফলে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া, দক্ষিণ দিঘলদীসহ বোরহানউদ্দিন উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। তাই আতঙ্কে দিন কাটছে দুপারের লক্ষাধিক মানুষের।

ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মসজিদ, দোকানপাট, মাছঘাটসহ শতাধিক স্থাপনা। বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চলমান আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সরেজমিনে ৭ সেপ্টেম্বর ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রভাবশালী বালুদস্যু চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। নদীর সাত-আটটি পয়েন্ট থেকে দিনরাত তোলা হচ্ছে বালু। ১০ থেকে ১২টি জাহাজে করে নিয়ে সেই বালু বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ফলে শান্ত তেঁতুলিয়া নদী এখন হয়ে পড়েছে অশান্ত। এতে ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

জানা যায়, গত (২৮ আগস্ট) তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় লোকজন অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বাধা দিলেও তা মানছে না প্রভাবশালী বালুদস্যু চক্র।

ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চর ভেদুরিয়ায় এলাকার আবুল বাশার অভিযোগ করে বলেন, নদীর লগে যুদ্ধ করে এত দিন টিকে আছি। নদী থেকে বালু তোলার ফলে হঠাৎ নদী ভাঙা শুরু হয়েছে। থাকার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

একই এলাকার সাবেরা খাতুন বলেন, আগুনে ঘরখানা পুইড়া গেলেও ভিডাডা (ভিটা) থাহে, আগুন নেবলে ভিডার উপরে কলাপাতার ছাওনি দিয়া থাওন যায়। আর নদীত ভাঙলে মাতার উপর কলাপাতা দিয়া থাওনের কিচ্ছু থাহে না। এই পর্যন্ত ৫ ভাঙ্গা দিছে। এহন কী দিয়া কী করমু কিছু কইতে পারি না। এ রকম তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী ভোলার দুই উপজেলার অসংখ্য পরিবার ভিটাছাড়া হয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপনের কাছে তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তিনি কোনো কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

অপরিকল্পিতভাবে চর অপসারণ ও অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন বৃদ্ধি পায় বলে জানান ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। তিনি আরও জানান, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে জরুরিভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দেওয়ার ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী জানান, অবৈধ উপায়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন হলে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন