• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বন্দরে নারী নির্যাতন মামলার সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি

অনলাইন ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কুড়িপাড়া কুটিরবন এলাকায় একটি বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে নিয়মিতভাবে উত্যক্ত করা বাড়ির ভাড়াটিয়া দের সাথে খারাপ আচরণ, ১৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা ও উক্ত নারীকে নির্যাতন করার অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী নারী শাহানারা আক্তার বাদী হয়ে সানীল ও অপূর্ব উভয় পিতা- আনোয়ার হোসেন, মাহফুজ ও তামিম উভয় পিতা- পিয়ার আলী, ৫. সাত্তার পিতা- সানাই, সর্বসাং কুড়িপাড়া কুটির বন, আরিফ পিতা- অজ্ঞাত সাং- বটতলা, কালাম, আলম, উভয় পিতা- আবুল হাসেম, সাগর পিতা- আমির হোসেন, সর্বসাং কুড়িপাড়া কুটির বন, হাফিজ, পিতা- আ: রাজ্জাক, সাং- ভাংতি, সর্ব থানা- বন্দর, জেলা: নারায়ণগঞ্জকে বিবাদী করে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলা হয়েছে।মামলা নং- ২৩।এদিকে মামলা হলেও অনেক আসামি এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলার আসামি অপূর্ব ও হাফিজকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে প্রেরণ করে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর থানা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্দর কুড়িপাড়া কুটিরবন এলাকায় কিশোরগ্যাং হিসেবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, মাদকব্যবসা, ইভটিজিং থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রভাবশালী কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়েই মূলত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার পরেও এসব আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী শাহানারা আকতার জানান, প্রায় দুই বছর আগে কুড়িপাড়া কুটির বন এলাকায় একটি ১ তলা বাড়ি নির্মাণ করি। সে থেকেই বিবাদীরা আমার সাথে খারাপ আচরণ সহ আমাকে ইভটিজিং করতো। আমি ভাড়া তুলতে গেলে বিবাদীরা আমার ১৪ রুমের ভাড়া বাড়ির জন্য ১৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। গত রবিবার বিকেল চারটায় আমার পরিবারের কিছু আত্মীয় নিয়ে ভাড়াটিয়ার সাথে আমি দেখা করতে গেলে ১নং ও ৩নং বিবাদী আমার কাছে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তাছাড়া সকল বিবাদী গন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারপিট করতে আসে। আমাদের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এলে তারা আমার স্বামী ও ছেলে এখানে আসলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ভুক্তভোগির স্বামী হাজী আকতার হোসেন সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিবাদীরা খারাপ প্রকৃতির লোক। বিশেষ করে ১নং ও ৩নং বিবাদী সানিল ও অপূর্ব অত্যন্ত ভয়ংকর। এরা কিশোরগ্যাং লিডার, কুখ্যাত সন্ত্রাসী, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী এবং চাঁদাবাজ। তারা উল্লেখিত এলাকায় মাদকের রামরাজত্ব গড়ে তুলেছে এবং চাঁদাবাজি করা তাদের প্রধান পেশা। আর এসব সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও নারী নির্যাতন মামলার আসামিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে নাজমুল নামের এক ব্যক্তি। নাজমুল সে আসামি সানিল ও অপূর্বের চাচা। নাজমুল ও আনোয়ার হোসেন তাদের পিতা কালা চান বেপারী। তাঁদের বাড়ি ছিল ময়মনসিংহে।

কালা চান বেপারী ও তার ভাই বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করতো এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়লে তার এলাকা থেকে পালিয়ে ১৯৬৯ সালে কুড়িপাড়া বাজারে এসে স্থান নেয় এবং এখানে কুলির কাজ করতো। তখন কুড়িপাড়া এলাকায় তার বসতি গড়ে তোলে। নাজমুল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সময় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। এদিকে মামলা হওয়ায় ও আসামিদের গ্রেফতারের খবরে বুধবার বিকেলে উল্লেখিত কুটিরবন এলাকাবাসী মাদক সেবীদের আস্তানা পুড়িয়ে দিয়ে আস্তানার মালামাল নদীতে ফেলে দিয়েছে এবং এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে।

মামলার অন্যান্য আসামিদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে কুটির বন এলাকাকে মাদকের ছোবল থেকে বাঁচাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম সহ প্রশাসনের কাছে জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আসামি ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। মামলার সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন